Image

সিলেটে দুই শতাধিক স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মান করে

চার দেয়ালের এক ঘর। এ ঘরেই ৫২ থেকে ৭১! বাদ পড়েনি ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়। আছে বুদ্ধিজীবী হত্যার ইতিহাস। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলেই মিলে বাঙালির ইতিহাস আর ঐতিহ্যের দেখা। বাজে জাগরণের গান। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন হারান মুক্তির সংগ্রামে। বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সহজভাবে জানাতে সিলেট জেলার দুই শতাধিক বিদ্যালয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেটের আর্ট এন্ড অটিস্টিক ফাউন্ডেশন।

সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, বালাগঞ্জ, সদর, বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা, ওসমানীনগর উপজেলা মিলে মোট ৬৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উপজেলার আরো ১ শত ৩৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপনের কাজটি করছে আর্ট এন্ড অটিস্টিক ফাউন্ডেশন। কোন ধরণের পারিশ্রমিক ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর দেশপ্রেমিক আগামীর প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে কাজটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিত্রশিল্পী ও আর্ট এন্ড অটিস্টিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল গনি হিমন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল ইচ্ছা হচ্ছে বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা। এ লক্ষ্যে একসময় আমরা দেয়ালে দেয়ালে অঙ্কন কাজ শুরু করি। সে কাজ এখন অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।’

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপনের এই উদ্যোগে কোন সহযোগিতা করা সম্ভব না হলেও এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটি আমার জানা ছিলো না। এই মাত্র জানলাম। অবশ্যই এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে গোয়াইনঘাট উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে সকল বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপনের ব্যাপারটি আমি অবগত হয়েছি। যারা এ কাজটি করছে তাদেরকে আমরা কোনরকম সহযোগিতা করতে না পারলেও তাদের এ কাজকে সরকারের ঊর্ধ্বতনমহলের নজরে আনার চেষ্টা করবো।’